শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন
গরীব থানায় গেলে, ফিরে আসে কেবল হতাশা!
গোদাগাড়ী প্রতিনিধি,
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় ৩ লাখ ৩০ হাজার ৯২৪ জনের বসবাস হলেও এখানে চাষী, দিনমজুর, গরীব মানুষ আর প্রভাবশালীদের মধ্যে আছে ভয়ংকর বৈষম্য। সমাজের চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে প্রভাবশালী নেতৃত্ব, আর খেটে খাওয়া মানুষগুলোকে লড়তে হয় শুধু পেটের ক্ষুধা নয়, ন্যায়বিচারের জন্যও।
গরীবেরা থানায় ঘোরে, কপালে মেলে না মামলা। পুলিশের পক্ষ থেকে আপোষের চাপ, ভুক্তভোগীর কণ্ঠরোধের ভয় আর বিচারহীনতার অন্ধকারই যেন এখনকার নিয়ম। আইনের আশ্রয় চাইলে গরীবকেই হয় প্রমাণ করতে—তারা মানুষ!
মাটিকাটার মহব্বতপুর গ্রামের মানসুরা বেগমের আঙুল ভেঙে দিয়েছে প্রতিবেশী জাহিদুলের পরিবার। ২২ এপ্রিলের সেই ঘটনায় বাবার করা অভিযোগ থানা ঘুরে শেষ হয় শুধুই কাগজে। পুলিশ ‘আপোষ’ চায়, কিন্তু পরিবার চায় ন্যায়। উপায় না দেখে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন সোরপ আলি।
একই ইউনিয়নের কাদিপুরের প্রবাসী নারী রোকশানা বেগমের গল্প আরও হৃদয়বিদারক। ১১ এপ্রিল নিজের আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি রক্ষা করতে গিয়ে ভূমিদস্যুদের হাতে নির্যাতনের শিকার হন তিনি। রক্তমাখা শরীর নিয়ে যখন তিনি থানায় যান, তখনও ‘বিচার’ হারিয়ে যায় ক্ষমতার খোলসের আড়ালে। তার মা বলেন—গরীব বলে বিচার পায় না!
আর উজানপাড়ার ফতা বেগম? এসআই কুদ্দুস মৌখিক অভিযোগেই জমির কাজ বন্ধ করে দেন, এরপর হুমকি দেন – আপোষ না করলে চালান দিব। এমনই ‘নিরপেক্ষ’ পুলিশিং! পরে থানায় ঘুমের ওষুধ চেয়ে জমির মালিককে কার্যত ব্যঙ্গ করেন।
এসবের চূড়ান্ত নজির, ডাইংপাড়া মোড় থেকে ধরা গাঁজা বিক্রেতা রফিককে ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া। অপরাধ করে বাঁচে অপরাধী, ধরা খায় গরীবের স্বপ্ন!
সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য—গোদাগাড়ীর ওসি রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে উঠে এসেছে ভয়াবহ অভিযোগ: মামলা না নেওয়া, টাকা দাবি, মাদক চক্রের সাথে রাতের গোপন বৈঠক, প্রভাবশালী নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা। এমনকি পহেলা বৈশাখে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার নাচের ভিডিও ঘুরছে মানুষের ফোনে ফোনে।
নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, “ওসি যেন নিরপেক্ষ থাকেন, আইন সবার জন্য সমান হয় – এটাই আমাদের দাবি।”
বিএনপির সাবেক নেতা ও নিক্সন গ্রুপ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুলতানুল ইসলাম তারেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যদি মামলা না নিয়ে থাকে, এটা সত্যিই দুঃখজনক, বরদাশতযোগ্য নয়।”
অবশেষে গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মীর্জা মোঃ আব্দুস ছালাম বলেন, “মামলা না নিলে আমার কাছে পাঠান, আমি তদন্ত করব।”
কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়—কে দেবে গরীবের পাশে দাঁড়ানোর সাহস?